

পরিচিতি
ফোন
ক্যাটাগরি
দর্শনীয় স্থানইউনিয়ন
রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নঠিকানা
পানিহাটা-তারানি, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী, শেরপুর
সেবার তথ্য
স্থানের ধরন
পাহাড় ও নদীদৃশ্য
দেখার সময়
দিনের বেলা


November 8, 2026
পানিহাটা-তারানি পাহাড়
পরিচিতি
পানিহাটা-তারানি পাহাড়
নালিতাবাড়ী, শেরপুর | Panihata-Tarani Hill
পরিচিতি
পানিহাটা-তারানি পাহাড় বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় অঞ্চলে অবস্থিত একটি অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
নদী, পাহাড়, বন আর ঝরনার অপরূপ সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে পানিহাটা। এর সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাশের তারানি গ্রামের পাহাড়ি প্রকৃতি। তাই পানিহাটা ও তারানি—দুটি স্থান মিলেই পরিচিতি পেয়েছে পানিহ

বিবরণ
পানিহাটা-তারানি পাহাড়
নালিতাবাড়ী, শেরপুর | Panihata-Tarani Hill
পরিচিতি
পানিহাটা-তারানি পাহাড় বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় অঞ্চলে অবস্থিত একটি অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
নদী, পাহাড়, বন আর ঝরনার অপরূপ সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে পানিহাটা। এর সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাশের তারানি গ্রামের পাহাড়ি প্রকৃতি। তাই পানিহাটা ও তারানি—দুটি স্থান মিলেই পরিচিতি পেয়েছে পানিহাটা-তারানি পাহাড় নামে।
এখানকার মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, সবুজে ঘেরা পাহাড়, স্বচ্ছ নদীর পানি এবং সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে বর্ষা ও শীতের সকালে পাহাড়ের ওপর মেঘের আনাগোনা এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। দিন দিন এটি পর্যটকদের কাছে নালিতাবাড়ীর অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থান
পানিহাটা-তারানি পাহাড়ে দাঁড়িয়ে উত্তরের দিকে তাকালে ভারতের মেঘে ঢাকা তুরা পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। কখনো পাহাড়ের চূড়া মেঘের আড়ালে হারিয়ে যায়, আবার কখনো মেঘ সরতেই সবুজ পাহাড়ের সারি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। নদীর স্বচ্ছ পানির নিচে ছড়িয়ে থাকা নুড়ি পাথর রোদে ঝিকিমিকি করে। নদীর এক পাশে রয়েছে প্রায় শত ফুট উঁচু সবুজে ঘেরা পাহাড়। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট পাহাড়, আঁকাবাঁকা সীমান্তবর্তী রাস্তা এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরো এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এখানে রয়েছে পানিহাটা পাদ্রি মিশন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, একটি ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য হোস্টেল। সব মিলিয়ে পানিহাটা-তারানি পাহাড় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা এবং পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য চমৎকার একটি স্থান।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে পানিহাটা-তারানি পাহাড়
ঢাকা থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ী যাওয়া যায়। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিলাস পরিবহনের বাসে নালিতাবাড়ী যেতে পারবেন। বাসে সময় লাগে আনুমানিক ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা। পরিবহনভেদে ভাড়া আনুমানিক ৪০০–৬০০ টাকা হতে পারে।
বিকল্পভাবে ঢাকা থেকে নকলা হয়ে নালিতাবাড়ী যাওয়া যায়।
নালিতাবাড়ী শহর থেকে পানিহাটা-তারানি পাহাড়
নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছে গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় হয়ে উত্তর দিকে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কাছাকাছি যেতে হবে। সেখান থেকে পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে ভোগাই ব্রিজ পার হয়ে প্রায় ২.৫–৩ কিলোমিটার এগোলে চায়না মোড়ে পৌঁছাবেন। এরপর উত্তরমুখী রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানি পাহাড়ের মূল পর্যটন এলাকায় পৌঁছে যাবেন।
নালিতাবাড়ী শহর থেকে রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশা অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে সহজেই যাওয়া যায়।
উপজেলা শহর থেকে দূরত্ব: প্রায় ১৯ কিলোমিটার
যাতায়াতের সময়: আনুমানিক ৩৫–৪৫ মিনিট
মোটরসাইকেলে আসা-যাওয়ার ভাড়া: আনুমানিক ১৫০–২০০ টাকা
যানবাহন, সময় ও ভাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
কোথায় থাকবেন?
পানিহাটা-তারানি পাহাড়ে ঢাকা থেকে একদিনে ঘুরে এসে ফিরে যাওয়া সম্ভব। তবে আশপাশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে চাইলে শেরপুর শহরে এক রাত অবস্থান করতে পারেন।
শেরপুর শহরে থাকার জন্য কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১. হোটেল সম্পদ প্লাজা (আবাসিক)
মোবাইল: ০১৭১৮২৯০৪৪
ফোন: ০৯৩১-৬১৭৭৬
২. আরাফাত গেস্ট হাউজ (আবাসিক)
ফোন: ০৯৩১-৬১২১৭
৩. বর্ণালী গেস্ট হাউজ (আবাসিক)
ফোন: ০৯৩১-৬১৫৭৫
৪. কাকলী গেস্ট হাউজ (আবাসিক)
ফোন: ০৯৩১-৬১২০৬
এছাড়াও নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যাওয়ার আগে কক্ষের প্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের বিষয়ে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো।
ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু পরামর্শ
পাহাড় ও নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকালবেলা যাওয়ার চেষ্টা করুন।
বর্ষাকালে নদীর পানির স্রোত ও পাহাড়ি রাস্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলুন।
পাহাড়, নদী ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।
স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনার প্রতি সম্মান দেখান।
ভ্রমণের আগে যাতায়াত ও আবাসনের খরচ সম্পর্কে খোঁজ নিন।
শেষ কথা
পাহাড়ের সবুজ, নদীর স্বচ্ছ জল, মেঘের আনাগোনা আর সীমান্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্য—সবকিছু মিলিয়ে পানিহাটা-তারানি পাহাড় নালিতাবাড়ীর এক অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চাইলে পানিহাটা-তারানি পাহাড় হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য।
পানিহাটায় আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যে হারিয়ে যান।
আরও সম্পর্কিত সেবা
দর্শনীয় স্থান ক্যাটাগরির অন্যান্য সেবা

নাকুগাঁও স্থলবন্দর
নাকুগাঁও, নালিতাবাড়ী, শেরপুর ·

মধুটিলা ইকোপার্ক
বারোমারি মিশন
বারোমারি, নাকুগাঁও এলাকা, পোড়াগাঁও ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী, শেরপুর ·
পানিহাটা খ্রিস্টান মিশন
পানিহাটা, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী, শেরপুর ·
সন্ন্যাসীভিটা রাবার ড্যাম
সন্ন্যাসীভিটা, বাঘবেড় ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী, শেরপুর ·
সার্জেন্ট আহাম্মদ আলী পার্ক
তারাগঞ্জ, নালিতাবাড়ী পৌরসভা, শেরপুর ·
